| by রিতম শাঁখারী | No comments

থামুন! আপনার জীবনের চলার পথে বাঘ আছে।

হালুম…! সামান্য একটা হালুম আর টাইটেল দেখে আপনারা কেউ ভয় পাননি সেটা আমি জানি। তবে কিঞ্চিৎ পরিমানে হলেও অবাক হয়েছেন। এটা আপনাকে মানতেই হবে। তবে বাঘ নিয়ে বিস্তারিত অন্য একদিন আলোচনা করবো। আজ মূল কথায় আসি।

চলুন, একবারে ছোটবেলায় যাই। আমার ছোটবেলায়। যখন ছোট ছিলাম, তখন দেখতাম প্রায় ৯০% বন্ধুদের বা সহপাঠীদের পরিবারের সাথে তাদের বন্ধুত্বের মিলটা খুব কাছের। তাদের দেখে নিজের খুব হিংসে লাগতো। আমিও চাইতাম, অতটাই উন্মুক্ত হতে। থাকবে না কোনো লুকোচুরি। সব সময় সব চাওয়াটা পুর্নতা পাবে, সেটা ভাবা ভুল। হয়ত আমিও ভুল করতাম। আমি যতই চেষ্টা করতাম, পরিবারের কাছে যাওয়ার, ততই দূরে সরে যেতাম। যদি খোলা মনে বলি, তাহলে “প্রথম বাধাটা বা দূরত্বটা পরিবার থেকেই তৈরি হত”। আর যদি নম্র ভদ্র ছেলের মত বলি, তাহলে “দুনিয়াতে সকল পাতাই, ধোয়া তুলসী পাতা”। জানি পুরো বিষয়টা আপনাদের মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে। সহজ করে বলছি…

এই ধরুননা, বসন্তের কোনো একদিন… তখন ক্লাস ৪/৫ এ পড়তাম। ক্লাস রুমের কোনো এক জানালার পাশে বসে আছি। বাহিরে প্রচুর বাতাশ। বাতাসের পরিমানটা এতই ছিল যে, স্কুলের সব ফ্যান বন্ধ ছিল। আর বাতাসে নিজে নিজেই ফ্যানগুলো ঘুরছিল। আমার কাছে বিষয়টা অদ্ভুত লাগছিল। মনে মনে আনন্দও পাচ্ছিলাম।

বাড়ি এসে সবাইকে খুলে বললাম। আমার খুব আনন্দ লাগছিল বিষয়টা। বাহিরের এতই বাতাশ, যে কারেন্ট ছাড়া বন্ধ ফ্যান ঘুরছে। অতঃপর পরিবার থেকে কি উত্তর এসেছিল জানেন? “বাতাশ খাওয়ার জন্য তোকে স্কুলে পাঠাই? ক্লাসটেস্টের রেজাল্ট কি? সামনে পরীক্ষা কবে?” হয়ত তখন বয়স কম ছিল, নরম মন ছিল। অনেক কিছু ভেঙ্গে গেছে। অনেক কিছুই দৃঢ় হয়েছে। সত্যি বলতে তখন এমন প্রতিউত্তর আমি কখনই আসা করি নি। আমি ভেবেছিলাম হয়ত বাতাশ নিয়ে আরো মজার মজার কোনো গল্প শুনবো…

এরকম ছোট ছোট অনেক ঘটনাই ঘটেছে। প্রতিউত্তরে সেরকমই জবাব পেয়েছি, “রেজাল্ট কি? পরীক্ষা কবে?”

গল্পের শুরুতেই আপনাদের বাঘের কথা বলেছিলাম। মনে আছে? আমার কাছে, এই রেজাল্ট আর পরীক্ষা জিনিসটা আস্তে আস্তে বাঘ / সাপের মত মনে হতে লাগলো। আমি অনুধাবন করতে শুরু করলাম, এই রেজাল্ট নামক বাঘ এমন একটি কাল্পনিক প্রাণী, যার কাজ নতুন জন্ম নেয়া ফুল কুড়ির ঘাড় মটকে দেয়া।

আস্তে আস্তে বয়স বারছে, স্কুল কলেজ শিক্ষা জীবন পেরিয়ে অতঃপর কর্মজীবনে আছি। এখনো রেজাল্ট বা পরীক্ষা নামক কাল্পনিক বাঘকে প্রচুর ভয় পাই। একটা কথা বলে রাখি, আমি কি রেজাল্ট বা পরীক্ষার মান বা সংখ্যা নিয়ে কিছু বলছি না। শুধু মাত্র এই শব্দ দুটির কথা বলছি। এই শব্দ দুটি শুনলেই মনে হয়, সামনে বাঘ আছে। আর এক পা আগালেই কামড় বসিয়ে দিবে।

ঠিক এমনটা অন্য কারো সাথে হয় কিনা জানি না। কাকতালীয় ভাবে মিলেও যেতে পারে। তবে আমার ক্ষেত্রে বাঘের ভয় জঙ্গলে নয় ঘরেই বেশি হয়।

 

ছবি-সম্মানীঃ পোস্টের ছবিট রিতম শাঁখারী ফটোগ্রাফি থেকে নেয়া। এখানে ক্লিক করে, ফ্লিকারে আসল ছবিটি দেখে আস্যে পারেন। “এখানে ক্লিক করুন

mm
রিতম শাঁখারী

বয়সে তেমন একটা বড় নয়। ছোট খাটো একজন মানুষ বলতে পারেন। নিজের সম্পর্কে বড়াই করে বলার মত কিছু এখনো অর্জন করতে পারিনি। ব্যাক্তিগত কিছু বলতে চাইলে, বলতে হবে এখনো বিয়েসাধি করি নাই, তাই প্রেমিকার কথা জানতে চাইয়া লজ্জা দিবেন না। বাঙালী ঘরের একজন ছোটখাটো গরীব মানুষ, তাই বাংলার খাবারটাই বেশি পছন্দ করি। আর সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমি পুরোটাই ভিন্য। সমাজের মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন আমি কম্পিউটার শাটডাউন করে ঘুমাতে যাই। রাতকে ভালোবাসি, সেকারণে রাতের সৌন্দর্যকে উপভোগ করার চেষ্টা করি।