| by ritom | No comments

কিভাবে আকাসে উড়া যায়?

ইচ্ছে করে, শুরু আকাশে উড়ি। লাভ নেই। মানুষ সাধারণ ভাবে উড়তে পারে না। তবে অসাধারণ ভাবে, কয়েক উপায়ে উড়তে পারে। যেমন, ধরেন আপনার অনেক টাকা আছে, আপনি বিমানে চড়ে ঘুরে বেরাতে পারেন। অথবা টাকা বাচাইতে চাইলে যেকোনো ঘুর্নিঝরের সামনে গিয়ে বীরপুরুষের মত দাড়িয়ে যেতে পারেন। ব্যাস। আপনাকে আর থামায় কে। উড়ে জাবেন।

যাইহোক এমন আবল তাবল কথা বলে আপনাদের মাথা বিগড়ে দিতে চাই না। আমি শুধু চাই, আপনাদের সন্নিকটে থেকে একটু আরাম আয়েশ করে, ভালবাসা উপভোগ করতে।

ভালোবাসার কথায় মনে পরলো, আমার মনে হয় এই জীবনে আর প্রেম ভালোবাসা হবে নাহ। কেন হবে? আমার সাথে প্রেম করার মত কোনো মেয়ে এখনো আছে বলে মনে হয় না। কেনো নাই, সেটা জানতে চাইবেন না? দুই একটা উদাহরণ দেই।

একবার ধানমন্ডি থাকে এক মেয়ের প্রেমে পরি। মেয়েটা সিলেট থেকে আসে। নাম বলছি না। নাম বললে চাকরি নাও থাকতে পারে। একটা ছদ্মনাম দেই, “স”। স এর সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের মাদ্ধমে। পছন্দ যেহেতু হয়েছে, জানাতে হবে। জানানোর আগে একটু খাতির জমাতে হবে। বন্ধুত্ব তৈরি করতে হবে। সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একটা প্রীপ্লান ছক তৈরি করে ফেললাম।

টানা তিনমাস রাতে মোবাইলে প্রতিদিন ২০ টাকার কথা বলেছি। হয়ত আপনারা ভাবতে পারেন, মাত্র ২০ টাকা? ভাই থামেন। একটা বেকার ছেলের পক্ষে তখন প্রতিদিন ২০ টাকা বের করা ছিল সাতসমুদ্র জয় করার মত। সেই বছর পহেলা বৈশাখে এক সাথে ঘুরলাম। ফুচকা খাওয়ালাম। লাল চুড়ি কিনে দিলাম। রিকশায় উঠে ফেরার সময়, একটা হার্ট চাবির রিং দিলাম, আর প্রোপজ করলাম। “রিফিউজ” । কারণ হিসাবে কি জানলাম জানেন? আমার কোনো যোগ্যতা নেই। আমার সাথে নাকি তার যায় না। আমি ছেলে ভালো। অনেক ভালো। কিন্তু প্রেম করার মত ছেলে আমি না। আমি স্মার্ট না। টিশার্ট পরি। চুল দাড়ির ঠিক ঠিকানা নাই। আরো হাজারো রিজন।

অনেকবার রিকোয়েস্ট করেছিলাম। লাভ হল নাহ। সেই মেয়ে খোজে নায়কের মত ছেলে । হাহাহা। কি বুঝলেন? আচ্ছা যাইহোক, পরবর্তি উদাহরণে যাই।

একবার কুষ্টিয়ার এক মেয়ের সাথে পরিচয় হল। পরিচয়ের মাদ্ধম, কুষ্টিয়ার ছেলে পরিচালক রাশেদ ভাই এর মাদ্ধমে। উনারই একটা কাজের সুবাদে কুষ্টিয়া গিয়েছিলাম। ততদিনে মিডিয়া / ফটোগ্রাফি দুনিয়া তে একটু একটু চেনা জানা হয়েছি। ফটোগ্রাফার রিতম শাঁখারী নামে অনেকেই চিনে। এই মেয়ের ছদ্মনাম দিলাম “ট”। এর সাথে কথা বলতে গিয়ে টাকা পয়সার কোনো বিষয় আসবে নাহ। কারণ তখন আমার একটা স্মার্টফোন ছিল। সারারাত আমরা হোয়াটস অ্যাপে কথা বলতে পারতাম। ট এর সাথে আন্ডারস্ট্যান্ডিং হতে বেশি সময় লাগে নি। ২-২.৫ মাসের মদ্ধেই আমাদের মদ্ধে ছোটখাটো একটা প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। মেয়ে বেশ কয়েকবার ঢাকায় আসে আমার সাথে দেখা করতে। ভালোই চলছিল, এই জনের আবার আমার এত কিছুতে সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা কোথায় দাড়ালো জানেন?

আগেই একবার বলেছিলাম মিডিয়া পাড়ায় রিতম নামটা কম বেশি অনেকেই তখন জানে। আমার তিনিও মিডিয়াতে একটু আক্টু ইন্টারেস্ট ছিল। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে, আমি মিডিয়াতে আছি। কততা নোংরা যায়গা এটা খুব ভালো করেই যানি। আমি কখনোই চাইনি ট মিডিয়াতা আসুক। অবশেষে, মিডিয়া এর ৩য় শ্রেণীর হিরোর সাথে প্রেমে জড়িয়ে গেলো। আমি চলে এলাম পছিয়ে।

এখানে মাত্র দুইটি উদাহরণ দিয়েছি, এবার আমি আসলে আমার কিছু কারণ পয়েন্ট আকারে বলছি, যার জন্য আমার সাথে কেউ বর্তমানে প্রেম করতে আসবে না।

০১। আমার সময় নির্দিস্ট। অর্থাৎ নির্দিস্ট সময়ের বাহিরে আমি কাউকে সময় দিতে পারছি না।
০২। টাকার অপচয় আমার পছন্দ না। যেমন অযথা রিকশা চড়ে, বা চটপটি ফুচকা খেয়ে আমি টাকা নষ্ট করার মানুষ নই।
০৩। কেউ যদি ভেবে থাকে, আমার কাছে সে আগে, বাকি সব পরে, তাহলে তার ধারনা ভুল। আমার কাছে প্রথমে আমার বাবা মা, ২য় আমার কাজ, ৩য় আমার নিজেকে নিজের সময় দেয়া, ৪র্থ সে।
০৪। অন্যান্য আর আট দশটা প্রেমিক প্রেমিকার মত আজাইরা গসিপ শুনলে আমার কেন জানি থাপ্রাইতে মন চায়।
০৫। বিয়ের কথা বলতেই পারে। কিন্তু ঘেনর ঘেন করা যাবে না। আর দুনিয়া উলটে গেলেও, পালিয়ে বিয়ের পক্ষে আমি নই।

এখানে আরো অনেক পয়েন্ট মিসিং আছে। যেমন, আমি এখনো আনস্মার্ট। আমার টাকা নেই, আমি একজন ছোটখাটো গরীব মানুষ। হাহাহা।

প্রেম ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে তো অনেক কিছুই বলে ফেললাম। আপনাদের বেপারেও বলতে পারেন। ততক্ষনে আমি আরেকটু ভাবি, আর কি কি উপায়ে আকাশে উড়া যায়।।

mm
ritom

Please enter the biographical info from the user profile screen.