| by রিতম শাঁখারী | No comments

কুকুরের রাজ্যে নো এন্ট্রি!

গল্পটি আজ থেকে প্রায় ১২-১৫ বছর আগের। তখন আমি খুব ছোট। ক্লাস ৩-৪ এ পড়ি হয়ত। পুজোর ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলাম। তখন সময়টাই ছিল অন্যরকম। সেই সইসবকালের হাজারো ঘটনার একটি অংশ বলছি।

তখন আমাদের বাড়িতে অনেক কুকুর ছিল। প্রায় ৮-১০ টার বেশি। তবে একটিও আমাদের নিজেদের পালা ছিল না। এরা মুলত, পাশের বাজার বা এলাকার কুকুর। আমাদের বাড়িতে সবাই খাবার দিতো, আদর করত, তাই এরা আমাদের পোষ মেনেই ছিল। আমি ছোট ছিলাম, এরা আমার সাথে খেলা করত। আরেকটা মজার বিষয় হচ্ছে, তখন আমাদের বাড়িতে যে কেউ চাইলেই ঢুকতে পারতো না কিন্তু। কুকুরের একটা ভয় বলে কথা।

আমাদের বাড়ি থেকে, ধানী জমির দূরত্ব, হেটে গেলে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। একদিন আমি একটি কুকুরের সাথে মজা করতে করতে সেই মাঠের দিকে জাচ্ছি। ধানের অবস্থা দেখতে। আমার সাথে সাথে কুকুরটিও ছিল। আমি সেখানে প্রায় ঘণ্টা দুই ছিলাম, সেও আমার সাথেই ছিল। আসল ঘটনাটা আমি দেখেছি, ফেরার সময়।

যে কুকুরকে আমি আমাদের বাড়িতে দেখেছি, ছোট খাটো বাঘের অবস্থানে থাকতে, সে খুবি শান্ত ভাবে আমার সাথে হেটে চলেছে। ফেরার সময় অবশ্য আমার সাথে আরো দুই কাকা ছিল। আমি দেখছিলাম, কুকুরটি আমাদের তিন জনের ঠিক মাঝ খানে আমাদের সাথে আগাচ্ছে।

যদি আস পাশের কথা বলি, এটাও দেখছিলাম, সেই রাস্তার পাশ দিয়ে যে বাড়ি গুলো ছিল, সেসব বাড়ির কুকুররা ধেয়ে আসছে। আমার অবস্থাটা এমন হয়েছে, যে আমি কুকুরটিকে অন্যান্য কুকুরের হাত থেকে সেফটি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। বিষয়টা একটু মজার হলেও, আমি বিষয়টা নিয়ে ভেবেছি অনেক।

যদিও এই বিষয় নতুন কিছু নয়, যেমন, নিজের এলাকায় সবাই রাজা। তারপরেও যখন নিজের চোখে দেখছিলাম, তখন বাস্তবতা আর অর্জিত জ্ঞান মিলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলাম।

আমি তখন বুঝতে পেরেছিলাম, যে একেকটি বাড়ি, একেক কুকুরের নিজ রাজ্য। সেখানে সেই রাজা। এক বা একাধিক। অন্য রাজ্যে যেতে হলে, তাকে আঘাত পেতেই হবে। আর অন্য রাজ্য থেকেও কেউ এলে, তাকেও আঘাত পেতে হবে।

জানি গল্পটা তেমন মজার নয়। মনের মাধুরি মিসিয়ে তেমন কিছু বলতে পারি নি। সামনে একদিন মাধুরি মিসিয়ে কিছু বলবো। 🙂

mm
রিতম শাঁখারী

বয়সে তেমন একটা বড় নয়। ছোট খাটো একজন মানুষ বলতে পারেন। নিজের সম্পর্কে বড়াই করে বলার মত কিছু এখনো অর্জন করতে পারিনি। ব্যাক্তিগত কিছু বলতে চাইলে, বলতে হবে এখনো বিয়েসাধি করি নাই, তাই প্রেমিকার কথা জানতে চাইয়া লজ্জা দিবেন না। বাঙালী ঘরের একজন ছোটখাটো গরীব মানুষ, তাই বাংলার খাবারটাই বেশি পছন্দ করি। আর সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমি পুরোটাই ভিন্য। সমাজের মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন আমি কম্পিউটার শাটডাউন করে ঘুমাতে যাই। রাতকে ভালোবাসি, সেকারণে রাতের সৌন্দর্যকে উপভোগ করার চেষ্টা করি।