| by রিতম শাঁখারী | No comments

দার্জিলিং ভ্রমণ – পর্ব ০১ (ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি হয়ে দার্জিলিং এর পথে)

ভ্রমণ বরাবরের মতই, পছন্দের তালিকার উপরে অবস্থান। আর সেই ভ্রমনটি যদি হয় দার্জিলিং, তাহলে তো কথাই নেই। একদম সোনায় সোহাগা।

এবার ঈদ এর ছুটিতে (ঈদ উল ফিতর ২০১৯) প্লান করলাম দার্জিলিং যাবো। বরাবরের মত সফরসঙ্গী সাব্বির। TOB HELPLINE গ্রুপ থেকে সাথে আরো চার জন যোগ হল। মাহবুব ভাই, সুমন ভাই, সাখাওয়াত ভাই ও শোভন ভাই। আমরা মোট ৬ জন। গ্ররউপ এর এরেঞ্জমেন্ট সম্পুর্নটা সাব্বির করেছে আর ট্যুর লিড করেছে মাহবুব ভাই।

আমরা ৬ জন। বাম পাশ থেকে দেখি, প্রথমেই শুধু মাথা দেখা যাচ্ছে, তিনি আমাদের সাব্বির, নিল টিশার্ট পরা মাহবুব ভাই আমাদের ট্যুর লিডার। লাল ও নিল টিশার্ট পরে আছেন সুমন ভাই। তার পরেই, সবার পিছনে, গলায় হেডফোন নিয়ে দাড়িয়ে আছে সাখাওয়াত ভাই। এরপরে, গ্রামিন চেকের জ্যাকেট পরে হাসি দিয়ে দাড়িয়ে আছি আমি (রিতম) অতঃপর একদম ডান পাশে, কাউবয় হ্যাট পরা শোভন ভাই।
আমরা ৬ জন। বাম পাশ থেকে দেখি, প্রথমেই শুধু মাথা দেখা যাচ্ছে, তিনি আমাদের সাব্বির, নিল টিশার্ট পরা মাহবুব ভাই আমাদের ট্যুর লিডার। লাল ও নিল টিশার্ট পরে আছেন সুমন ভাই। তার পরেই, সবার পিছনে, গলায় হেডফোন নিয়ে দাড়িয়ে আছে সাখাওয়াত ভাই। এরপরে, গ্রামিন চেকের জ্যাকেট পরে হাসি দিয়ে দাড়িয়ে আছি আমি (রিতম) অতঃপর একদম ডান পাশে, কাউবয় হ্যাট পরা শোভন ভাই।

আমরা যাত্রা শুরু করি, ঈদ এর পর দিন। রাত ৯.৩০ এর বাস। এনা পরিবহন। এনা পরিবহনের নাম শুনলেই একটু ভয় ভয় লাগে, বাকিটা আশাকরি আপ্নারা বুঝেই গিয়েছেন।  রাত ৮.৩০ এর মদ্ধে আমরা সবাই কল্যাণপুর বাস কাউন্টারে পৌঁছে গিয়েছিলাম।  আগে যাবার বিশেষ একটা কারণ ছিল।
কারণটা হল, আমাদের কয়েকটা প্লান ছিল।

ছোট ভাই তুহিন আমাকে কল্যাণপুর পর্যন্ত বাইকে ড্রপ করতে এসেছিল।

প্লান এ) সিক্কিম ট্যুর।
প্লান বি) দার্জিলিং ট্যুর।
প্লান সি) শিলং ট্যুর।

প্লান এ) সিক্কিম ট্যুরটা আমাদের বাদ দিতে হয়। কারণ, ইন্ডিয়াতে সামার ভ্যাকেশন থাকায়, সব কিছুর দাম ২-৪ গুন বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে আমাদের দেশে ঈদ ভ্যাকেশন থাকায়, অনেক ভিড় হতে থাকে। সেই সাথে আমাদের ট্যুর ছিল বাজেট ট্যুর। এছারাও, তখন সিক্কম এর কিছু জাগায় পাহাড় ধস হয়ে রাস্তা বন্ধ ছিল। সব দিক বিবেচনা করেই, পরে আমরা সিক্কিম ট্যুরটা ক্যান্সেল করি।

প্লান সি) শিলং ট্যুর, প্লান বি একটু পরে বলছি। আমরা ঠিক করেছিলাম শিলং যাবো। কিন্তু কিছুক্ষন পরেই আমারা এটাও বাদ দেই। কারণ হচ্ছে শিলং হচ্ছে বর্ষার মৌসুমের জন্য উপযুক্ত ঘোরার সময়। এখন প্রখর রোদের সময় গিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমরা শিলং এর আসল সৌন্দর্য পাবো না। কিন্তু তাও আমরা শিলিগুড়ি নেমে শিলং যাবার চেষ্টা করেছিলাম। কেনো না যেতে পেরে দার্জিলিং গিয়েছি, সেটা গল্পের সময় বলবো।

প্লান বি) দার্জিলিং ট্যুর, এটাই ফিক্স হল। পাহাড় মেঘ ও সবুজের অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে, আমরা ঝটপট উঠে পরলাম বাসে। দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে।

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়, বাসে ওঠার আগে।
ঢাকা থেকে পঞ্চগড়, বাসে ওঠার আগে।

এনা পরিবহন এর বাস চলছে। মাঝে সাখাওয়াত ভাই এর একটু মন খারাপ থাকলেও, বাকি সবাই কিন্তু খুব আনন্দ করছিলাম। আর মন খারাপ থাকবেই না কেনো, মন খারাপ হউয়া সাভাবিক। প্রথম প্লান ছিল সিক্কিম। সেটা কেন্সেল হয়েগিয়েছে। মন আমাদেরও খারাপ লেগেছে। তবুও আমরা খুশি ছিলাম। আর তখন যা যা হচ্ছিল, সব কিছুই কিন্তু ঘটছে মাহবুব ভাই এর নেতৃত্বে। যাত্রা পথে, রাতের বেলা ঘুমানো ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। পথে সিরাজগঞ্জ ফুড ভিলেজে আমাদের যাত্রা বিরতি আসে। ঝটপট পরটা ডিম আর ডাল ভাজি খেয়ে নিলাম সবাই।

বাসে আমি, সাব্বির ও মাহবুব ভাই।
বাসে আমি, সাব্বির ও মাহবুব ভাই।

বলা ভালো আমাদের টোটাল ট্যুর এর হিসাব টা টাকায় না করে রুপিতে করেছি। মানে আমরা চেয়েছি, ৮০০০ রুপি (RS) এর মদ্ধে সম্পুর্ন ট্যুর শেষ করবো। বাকিটা আমরা দেখি, কত বারে বা কমে। গল্পের সাথে চলি…

আমরা ভোর ০৭ টায় পঞ্চগড় বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে নামি। সেখান থেকে আমরা লোকাল বাসে চড়ে বাংলাবান্দা বর্ডার পর্যন্ত যাই। প্রায় ঘন্টাখানিক সময় লাগে আমাদের বাংলাবান্দা বর্ডারে যেতে।

ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে
ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে

সকাল ০৮ টায় আমরা বাংলাবান্দা বর্ডারে ইমিগ্রেশন লাইনে দাড়িয়ে আছি। অফিস খুলবে ৯ টায়। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, ততক্ষনে, লাইন অনেক বেড়ে গিয়েছে। আমাদের সামনে কম হলেও ৩০-৪০ জনের একটা লাইন ছিল।

ইমিগ্রেশন অফিসের ভিতরে, আমরা সবাই আমাদের পাসপোর্টে ডিপার্চার সিল নিয়ে, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স নিয়ে, বাংলাদেশ প্রান্তের কাজ শেষ করি। ততক্ষনে, ঘড়িতে ১১ টার বেশি বাজে।

একটা মজার বিষয় হচ্ছে, আমরা এখন বাংলাদেশের বাহিরে। 🙂 কারণ আমরা ডিপার্চার সিল নিয়ে নিয়েছি। আমরা বিজিবি এর কাছে, এক্সিট ডাটা এন্ট্রি করে বেরিয়ে পরেছি। আমরা নোম্যান্স ল্যান্ডে হাটছি। মানে বাংলাদেশ আর ইন্ডিয়ার মাঝ খানে। এই যায়গার মালিক শুধুমাত্র জাতিসংঘ। এখানে দুই দেশ এর মানুষ আসতে পারে। কিন্তু অনুমতি ছাড়া একদেশের মানুষ আরেক দেশে যেতে পারবে না।

এটাই বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট। আর আমি আছি নো ম্যানস লান্ডে। আমার পিছনে যেই পতাকা বরাবর একটি সাদা দাগ রয়েছে, সেটাই বাংলাদেশের শেষ সীমানা।
এটাই বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট। আর আমি আছি নো ম্যানস লান্ডে। আমার পিছনে যেই পতাকা বরাবর একটি সাদা দাগ রয়েছে, সেটাই বাংলাদেশের শেষ সীমানা।

আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ইন্ডিয়া এর দিকে। বর্ডারের ওপাশের নাম ফুলবাড়ি।

ইন্ডিয়ান বর্ডার দিয়ে ঢুকছি। বিদেশে যাচ্ছি, এমন একটা ফিলিংস কাজ করছে। জানিনা অন্যদের কেমন অনুভূতি, তবে আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। জীবনের প্রথম বিদেশ যাচ্ছি।

ইন্ডিয়ার বর্ডার গেট দিয়ে ঢুকতেই, ইন্ডিয়ার বিএসএফ আমাদের তাদের নিজস্ব অটো দিয়ে নিয়ে জাচ্ছেন ইন্ডীয়ান ইমিগ্রেশন অফিসে। ভালই লাগছে।

ইন্ডিয়াতে ঢুকছি।
ইন্ডিয়াতে ঢুকছি।

এরি মদ্ধে, আমরা ইমিগ্রেশন অফিসে ব্যাগ ও পাসপোর্ট জমা দেই। আর জমা দেয়ার পরে যে ওয়েটিং টাইম ছিল, তখন আমরা টাকা থেকে রুপি কনভার্ট করি, একটা ইন্ডিয়ান মোবাইল সিম (ফরেনার ট্রাভেল সিম) নেই। এই সিমের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ৩-৬ মাস মেয়াদে এই সিমগুলো আবার ডিয়াক্টিভেট হয়ে যায়। তাই, এগুলো ক্রয় মূল্য হয় ৪০০ রুপি, আর ফেরার সময় ফেরত দিলে আরো ২০০ রুপি ফেরত পাওয়া যায়।

আমি ও সাব্বির ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে।
আমি ও সাব্বির ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে।

ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস শেষ করতে করতে আমাদের বেলা ০২ টার বেশি বেজে যায়। তখন কিন্তু আমাদের ঘড়িতে ইন্ডিয়ান টাইম চলছে।

ইমিগ্রেশন কাস্টমস শেষ। হাফ ছেরে বাঁচলাম। এবার যাত্রা শিলিগুড়ি। পথে ফুলবাড়ি বাজারে প্রথমবারের মত ইন্ডিয়াতে খেলাম। খাবারের স্বাদ খুব একটা বিস্তারিত বলতে পারছি না। কারণ, তখন আমরা সবাই ক্ষুদার্থ ছিলাম। আইটেম ছিল, ভাত, সবজি, ডিম তরকারি, ডাল ও চিপ্স।

গন্তব্য নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। কি ভাবছেন? আমরা টয় ট্রেনে দার্জিলিং যাবো? একটু থেমে পুরোনো কথায় নজর দেই। বলেছিলাম, আমাদের প্লান সি) তে শিলং যাবার কথা ছিল, আমরা যাই নি। কেনো যাইনি এখন বলছি। আমরা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে যাওয়ার জন্য অটোতে চেপে বসেছি। আমরা সেখানে গিয়ে প্রায় বিকাল পর্যন্ত শিলং এর ট্রেনের টিকিট খুজেছি। অতঃপর না পাওয়ায়, আমরা দার্জিলিং এর পথে।

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে গিয়েছিলাম, শিলং এর ট্রেন খুজতে। না পেয়ে, দার্জিলিং।
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে গিয়েছিলাম, শিলং এর ট্রেন খুজতে। না পেয়ে, দার্জিলিং।

লোকাল ট্যাক্সিতে গাদাগাদি করে বসে, চলেছি আমরা শিলিগুড়ির দার্জিলিং ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে।
২০০০ রুপিতে একটা ১১ সিটের টাটা সুমো ট্যাক্সি ভাড়া করি। এই গাড়িতে চড়েই আমরা পৌঁছে যাবো দার্জিলিং।

ড্রাইভারের নাম ছিল বর্ষন। সে পাহাড়েই থাকে। নিজের গাড়ি ভাড়ায় চালিয়েই তার দিন কাটে। খুবি ভালো ব্যাবহার ও গাড়ি চালানোর ধরণ।

আঁকাবাঁকা মাঠ ঘাট রাস্তা পেরিয়ে আমি উঠে যাচ্ছি পাহাড়ে…

আঁকাবাঁকা পথে, আমরা চলছি...
আঁকাবাঁকা পথে, আমরা চলছি…

নিচে কমেন্ট বক্স খোলা আছে। আপনার মনের মত মন্তব্য করতে পারেন। লেখায় অনেক ভুল আছে, সেটা আমি জানি। তাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। আর এক আরটিকেলে সম্পুর্ন গল্প বলা সম্ভব নয়। তাই পর্ব আকারে লিখছি। আরো অনেক কিছু আসছে…

পরবর্তি পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুণ।

mm
রিতম শাঁখারী

বয়সে তেমন একটা বড় নয়। ছোট খাটো একজন মানুষ বলতে পারেন। নিজের সম্পর্কে বড়াই করে বলার মত কিছু এখনো অর্জন করতে পারিনি। ব্যাক্তিগত কিছু বলতে চাইলে, বলতে হবে এখনো বিয়েসাধি করি নাই, তাই প্রেমিকার কথা জানতে চাইয়া লজ্জা দিবেন না। বাঙালী ঘরের একজন ছোটখাটো গরীব মানুষ, তাই বাংলার খাবারটাই বেশি পছন্দ করি। আর সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমি পুরোটাই ভিন্য। সমাজের মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন আমি কম্পিউটার শাটডাউন করে ঘুমাতে যাই। রাতকে ভালোবাসি, সেকারণে রাতের সৌন্দর্যকে উপভোগ করার চেষ্টা করি।