| by রিতম শাঁখারী | No comments

দার্জিলিং ভ্রমণ – পর্ব ০২ (আমরা এখন দার্জিলিং)

তা চলছেন তো আমার সাথে? দার্জিলিং এর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে। এটা আমাদের ২য় পর্ব। আপনি যদি এখনো আমার ১ম পর্ব না পড়ে থেকেন, তাহলে এখানে ক্লিক করে, আগের পর্বটি পড়ে আসার অনুরোধ রইল।

আমরা সবে মাত্র শিলিগুড়ি সেনানিবাস পার হয়ে, পাহাড়ে উঠছি। পাহাড়ের একদম নিচ থেকে উপরে দেখার এক রকম সৌন্দর্য। আবার উপর থেকে দেখার আরেক রকম সৌন্দর্য। আমরা এখন নিচ থেকেই দেখছি।

বর্ষন, উনার গাড়িতে করেই আমরা শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাই।
বর্ষন, উনার গাড়িতে করেই আমরা শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাই।

একটা সতর্কতা মুলক কথা বলে রাখি, যাদের শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্র এর সমস্যা অথবা কান এর কোনো প্রকার সমস্যা থেকে থাকলে, তারা অবশ্যই পাহাড়ে বেড়াতে যাবার আগে কোনো ভালো ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করে যাবেন। এতে আপনার অনেক উপকার হবে।

ছবিতে আমরা সবাই, শুধু সাব্বির বাদে। সে সামনের সিটে বসে আছে। আমরা মাত্র ৬ জন সম্পুর্ন ১০ সিটের গাড়ি ভাড়ায় নেয়াতে, দেখতেই পাচ্ছেন, আমরা কিরকম আমার করে যাচ্ছি।
ছবিতে আমরা সবাই, শুধু সাব্বির বাদে। সে সামনের সিটে বসে আছে। আমরা মাত্র ৬ জন সম্পুর্ন ১০ সিটের গাড়ি ভাড়ায় নেয়াতে, দেখতেই পাচ্ছেন, আমরা কিরকম আমার করে যাচ্ছি।

বর্ষন ভাই ভালোই গাড়ি চালায়। এই প্রথম আমি দেখলাম, পাহাড়ি এলাকায় কেউ হর্ন দেয় না। হর্ন ছারাই উনারা খুব সুন্দর ভাবে গাড়ি চালাতে পারে। আর আপনারা তো জানেন যে, পাহাড়ি রাস্তায় যেসব গাড়ি চলাচল করে, সেসব গাড়িতে প্রত্যেক চাকায় আলাদা আলাদা ব্রেক থাকে। এবং সেগুলো ইঞ্জিন ব্রেক। আর সব গুলো টায়ারে এক্সট্রা গ্রিপ লাগানো থাকে। পাশাপাশি রাস্তায় একদম মসৃণ থাকে না, ছোট ছোট পাথর একটু উচু থাকে। তাই পাহাড়ি এত দুর্গম রাস্তাতেও এই গাড়িগুলো খুব সুন্দর ভাবে চলতে পারে।

আমরা সবে মাত্র পাহাড়ে উঠছি। আর চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করছি। আপনাদের দেখার জন্য যদিও ছবি দিয়েছি, কিন্তু এই সৌন্দর্য নিজ চোখে না দেখলে, লিখে বা ছবিতে বোঝানো সম্ভব নয়।
আমরা সবে মাত্র পাহাড়ে উঠছি। আর চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করছি। আপনাদের দেখার জন্য যদিও ছবি দিয়েছি, কিন্তু এই সৌন্দর্য নিজ চোখে না দেখলে, লিখে বা ছবিতে বোঝানো সম্ভব নয়।

চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এর বিস্তারিত বর্ননা মুখে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। ছোবিতেও সম্ভব নয়। এটা শুধু মাত্র নিজ চোখে দেখেই শান্তি পাওয়া যায়। আপনার কাছে মনে হবে, রাস্তায় গাড়ি চলছে আর ভূমিতে থাকা স্বর্গ আপনার কাছে আসছে।

ইন্ডিয়াতে খুবি প্রচলিত একটি খাবার, মোমো। মোমো খেতে খুবি সুস্বাদু। ভেজ মোমো অথবা নন -ভেজ মোমো, দুটোই পাওয়া যায়। এটা আমাদের দেশের অনেকটা কুলি পিঠার মত। তবে কুলি পিঠার থেকে অনেক গুন আলাদা।

ইন্ডিয়ার প্রচলিত খাবার, মোমো। আমরা খেয়েছিলাম চিকেন মোমো। জিভে লেগে থাকার মত স্বাদ। তবে পাশে থাকা সসটা আমার কাছে ভালো লাগে নি।
ইন্ডিয়ার প্রচলিত খাবার, মোমো। আমরা খেয়েছিলাম চিকেন মোমো। জিভে লেগে থাকার মত স্বাদ। তবে পাশে থাকা সসটা আমার কাছে ভালো লাগে নি।

আমরা যখন পাহাড়ি পথে দার্জিলিং উঠছিলাম, তখন রাস্তায় চায়ের বিরতিতে এই মোমো খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমাদের। আমি খেয়েছিলাম চিকেন মোমো এবং এক কাপ কফি, আহা স্বাদ।

আস্তে আস্তে সন্ধ্যা নেমে আসছে। অন্ধকার হয়ে আসছে পাহাড়ি রাস্তা। দূরে ফুটে উঠছে পাহাড়ি মানুষ দের আলো। ঐযে দূরে দার্জিলিং।

ঐযে দূরে, পাহাড়ের উপর আলো দেখা যাচ্ছে, ওটাই দার্জিলিং।
ঐযে দূরে, পাহাড়ের উপর আলো দেখা যাচ্ছে, ওটাই দার্জিলিং।

এখানে আরেকটা কথা বলে রাখি। আপনারা যখন গাড়ি ঠিক করবেন, তাহলে দুই ভাবে করা যায়।
০১) সম্পুর্ন গাড়ি রিজার্ভ করতে পারেন। এতে আপনাদের খরচ একটু বেশি পরবে।
০২) লোকাল শেয়ার টাক্সিতে যেতে পারেন। গাড়ির মান একই থাকে। আমরা এটাতেই গিয়েছিলাম। তবে একটু ভিন্য ভাবে। যেমন, আমরা ছিলাম ০৬ জন। তাই আমরা ১০ সিটের লোকাল ট্যাক্সিতে নিয়ে নেই। মানে আমরা ৬ জন, ১০ জনের ভাড়া দিবো। এতে খরচ অনেক কমে যায়, আর একটু আরামেই ভ্রমণ হয়।

আমরা এখন দার্জিলিং। ড্রাইভার বর্ষন আমাদের দার্জিলিং মল রোডে, হোতেল রামাদা এর সামনে নামিয়ে দেন।

মজা করতে করতে যে এলাম, রাত তো ৮ টা বাজে তখন। এখন থাকবো কই? আমাদের তো

দার্জিলিং নেমেই সবাই যখন হোটেল খুজতে ব্যাস্ত, আমি আর সাব্বির এই ফাকে দুইটা কানটুপি কিনে নেই। কবির ভাষায় বলি, মাথায় পরেছি দার্জিলিং টুপি :P
দার্জিলিং নেমেই সবাই যখন হোটেল খুজতে ব্যাস্ত, আমি আর সাব্বির এই ফাকে দুইটা কানটুপি কিনে নেই। কবির ভাষায় বলি, মাথায় পরেছি দার্জিলিং টুপি 😛

কোনো হোটেল বুকিং নেই। কি করা যায়? বেশ কিছু হোটেল খোজা খুজি চলছে।
একদিকে আমি সাব্বির আর শোভন ভাই, সব ব্যাগ পাহারা দিচ্ছি।
সুযোগ বুঝে, আমি আর সাব্বির দুইটা কানটুপি কিনি। ঠাণ্ডা লাগছিল, আর এমনিতেও কিনতে হবে। দামও কম। তাই নিয়ে নিলাম।

অবশেষে হোটেল পাওয়া গিয়েছে। আহা শান্তি… কিন্তু অশান্তি। মানে এখন প্রায় ৬০ মিটার এর মত উপরে উঠতে হবে। পায়ে হেটে। হোটেল এর জন্য। কারন নিজের দিকে কোনো হোটেল ফাকা নেই। তাও পাওয়া গেছে একটি রুম। সেখানেই আমাদের ৬ জনকে কষ্ট করে থাকতে হবে। যেহেতু আমরা ঘুরতে এসেছি, তাই এসব কস্ট, কস্ট বলে মনে হচ্ছে না। আমরা সব যাগায় মানিয়ে নিতে পারি।

রাত গড়িয়ে ১০ টা বেজে গেছে। খুদাও লেগেছে প্রচুর। দার্জিলিংএ এই সময় কিছু পাওয়াটা খুবি ভাগ্যের ব্যাপার। কারণ, এখানে রাত ৮.৩০ বাজলেই সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমাদের হোটেলে রান্নার ব্যাবস্থা থাকায়, হোটেল থেকেই হালকার উপর ঝাপসা খাবারের ব্যাবস্থা করেছে। খাবারের মেনুতে রয়েছে, গরম ভাত, ডিম ভাজি, ডাল। হয়ত একটা সবজি ছিল, কিন্তু আমার এখন সঠিক খেয়াল আসছে না। তবে আর যাই বলেন না কেনো। আগের দিন রাত ৮ টা থেকে শুরু করে, পর দিন রাত ১০ টায় একটু বিশ্রাম। তখন খাবারটা লাগছিল অমৃত এর মত।
আরেকটা মজার ব্যাপার আছে এখানে। সেটা হচ্ছে খাবার পানির ব্যাপারে। এটা, আপনারা আমাকে কমেন্টে মনে করিয়ে দিবেন। পরবর্তী পর্ব গুলোতে বলবো।

গাড়িতেই ছবিটা তুলেছিলাম। সূর্য তখন পাহাড়ের কোলে ডুবছে মাত্র...
গাড়িতেই ছবিটা তুলেছিলাম। সূর্য তখন পাহাড়ের কোলে ডুবছে মাত্র…

এখন আর শরীর টানছে না। শুতে হবে। ঘুমাতে হবে। পরদিন সকাল সকাল বের হতে হবে। দার্জিলিং দেখতে হবে।

শুভরাত্রি দার্জিলিং… 🙂

নিচে কমেন্ট বক্স খোলা আছে। আপনার মনের মত মন্তব্য করতে পারেন। লেখায় অনেক ভুল আছে, সেটা আমি জানি। তাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। আগের পর্বের গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন। আর পরবর্তি গল্প পড়তে আপেক্ষা করুন। আরো আসছে…

পরবর্তি পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুণ।

mm
রিতম শাঁখারী

বয়সে তেমন একটা বড় নয়। ছোট খাটো একজন মানুষ বলতে পারেন। নিজের সম্পর্কে বড়াই করে বলার মত কিছু এখনো অর্জন করতে পারিনি। ব্যাক্তিগত কিছু বলতে চাইলে, বলতে হবে এখনো বিয়েসাধি করি নাই, তাই প্রেমিকার কথা জানতে চাইয়া লজ্জা দিবেন না। বাঙালী ঘরের একজন ছোটখাটো গরীব মানুষ, তাই বাংলার খাবারটাই বেশি পছন্দ করি। আর সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমি পুরোটাই ভিন্য। সমাজের মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন আমি কম্পিউটার শাটডাউন করে ঘুমাতে যাই। রাতকে ভালোবাসি, সেকারণে রাতের সৌন্দর্যকে উপভোগ করার চেষ্টা করি।