| by রিতম শাঁখারী | No comments

দার্জিলিং ভ্রমণ – পর্ব ০৬ (কালিম্পং আসলেই খুব সুন্দর)

বলতেই হয় শুভ সন্ধ্যা কালিম্পং! সারাদিন কালিম্পং এর আসে পাসে ঘুরে, আমরা এখন বের হয়েছি রাতের কালিম্পং দেখতে।  আর যারা এখনো আমার ০৫ম পর্বটি পড়েনি, তারা এখানে ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন

প্রথম কথা হচ্ছে, ইন্ডিয়া আসলাম, যদি পানিপুরি না খাই, তাহলে কি হয় বলুন? আমরাও লেগে পরেছি, পানিপুরি খেতে। ডেলো পাহাড়ে খেয়েছিলাম পানিপুরি। আবার খেয়েছি, কালিম্পং মোড়ে।

আমরা পানিপুরি খাচ্ছি। কালিম্পং চৌরাস্তা মোড়ে।
আমরা পানিপুরি খাচ্ছি। কালিম্পং চৌরাস্তা মোড়ে।

এছারাও, আমাদের ইচ্ছা ছিল, কালিম্পং এর স্ট্রিট ফুড খেয়ে দেখা।

কালিম্পং এর রাস্তায় ঘুরাঘুরি।
কালিম্পং এর রাস্তায় ঘুরাঘুরি।

তাও খেলাম। ঘুরনিভাজি, এগরোল, চিকেন সাস্লেক, ইত্যাদি খেয়েছিলাম। খাবারের মান যথেষ্ট ভালো। এত ভাজাপোরা খাওয়ার পরেও, পেটে কোনো গ্যাস হয়নি আমার।

 

আমরা এখন খুজছি, মাসীমার হোটেল। কালিম্পংএর বিখ্যাত বাঙালি হোটেল। গুগলে ভালো রিভিউ আছে। পেয়েও গেলাম। খাওয়া দাওয়া হল ভরপুর। আমি চিকেন ভাত নিলাম। তবে বরাবরের মত কম্পলসারি, একটা ভাজি, একটা সবজি তরকারি, একটা ডাল আর একটা চিপ্স। উনাদের পরিবেশন করার মাদ্ধমটা এমন, যে আগে কম্পলসারি খাবার গুলো দিবে। তারপর, আপনি যেটা চেয়েছেন, সেটা পাবেন। তাও খেলাম। খাবারের স্বাদ ভালো।
খাবার শেষে বের হয়ে দেখি মজার ঘটনা। আমরা আসলে যে হোটেলে খেয়েছি, সেটা মাসীমার হোটেল নয়। মাসীমার হোটেলের পাশের একটি হোটেল 😛

কি লজ্জা! আসলে ঠিক লজ্জা নয়, অনেকটা অন্যরকম মজার মদ্ধে বিষয়টা পরে।
হোটেলে ফরছি। ঝটপট ঘুমাতে হবে, সকালে উঠেই বের হতে হবে সাইটসিন এ। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।

শুভ সকাল কালিম্পং। যেহেতু পাহাড়ি এলাকা, তাই কখন কিরকম আবহাওয়া থাকে, বলা যায় না। রাতে অনেক গরম লাগলেও, সকাল সকাল লাগছে সেই ঠাণ্ডা। মাহবুব ভাই এর ডাক চলে এসেছে। রাডি হতে হবে। মাসীমার হোটেলে নাস্তা করে যেতে হবে সাইটসিন করতে।

লুচি আলুর দম।
লুচি আলুর দম।

মাসীমার হোটেলে স্বাগতম। অনেক্ষন পর, এখানে অন্তত ঠিক মত বাংলায় কথা বলা যাচ্ছে।

মাসীমার হোটেলে লুচি আলুরদম এর জন্য অপেক্ষা করছি।
মাসীমার হোটেলে লুচি আলুরদম এর জন্য অপেক্ষা করছি।

খবারের অর্ডার দিয়েছি। লুচি আলুরদম। লুচিটা সেই টেস্টি ছিল। কিন্তু ইন্ডিয়ার মানুষরা আসলে আলুরদম বলতে কি বোঝে, সেটাই বঝা যাচ্ছে না। চেয়েছি আলুরদম। দিয়েছে আলুর দম। কিন্তু আলুর দমে আলু নেই। ভিতরে শুধু পটল পেয়েছি। >:(
যদিও, যতটুক দিয়েছে, খেয়ে ভালো লেগেছে।

বেড়িয়ে পরলাম। আজকের গাড়ি কিন্তু ভালো। ড্রাইভার ভাইও জোস। বিশেষ করে, তার কমিউনিকেশন স্কিল। অসাধারণ। তিনি অনেক গুলো ভাষা পারেন। হিন্দি, ইংলিশ, নেপালি, পাহাড়ি একটা ভাষা আছে সেটা, এছাড়াও তিনি বাংলা খুব ভালো বঝেন। তবে বলতে পারেন না।

লাভা যাওয়ার পথে, চা বিরতিতে।
লাভা যাওয়ার পথে, চা বিরতিতে।

আমরা চলছি লাভা মোনেস্ট্রিতে। কালিম্পং থেকে লাভা পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ২৮ কিমি. এই পরিবেশটা এতটাই সুন্দর যে, বলে বোঝানো যাবে না। এখান থেকেও দেখা যায়, আকাশ, পাহাড় আর মেঘের অপরূপ লিলা খেলা। আরো বড় বিষয়, এখান থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ের চুড়া। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘার চুড়া আরো স্পষ্ট ভাবে দেখতে, আমাদের যেতে হবে রিসপ ভিউ পয়েন্ট। যেখানে আমরা একটু পরে যাবো।

লাভা ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার চেষ্টা। কিন্তু মেঘের কারণে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।
লাভা ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার চেষ্টা। কিন্তু মেঘের কারণে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।

লাভা ভিউপয়েন্টে প্রায় ৩০-৪০ মিনিট ছিলাম। এরপর আমরা চলছি রিসপ এর দিকে।
সবাই বলে, এখান থেকে খুব সুন্দর হিমালয় প্রদেশ এর ভিউ দেখা যায়।
লাভা থেকে রিসপ বেশি দূরে নয়। কাছেই।

লাভা ভিউ পয়েন্টে পাহাড় আর মেঘের অপরূপ সম্পর্ক।
লাভা ভিউ পয়েন্টে পাহাড় আর মেঘের অপরূপ সম্পর্ক।

আমাদের হতে হয়েছে হতাশ। কারন, এই ভিউ পয়েন্টের সামনে প্রচুর আগাছা তৈরি হয়েছে। যার কারনে আমরা রিসপ এর ভিউ মিস করে গেলাম। তবে মন কিন্তু জুড়িয়ে গিয়েছে। কারন, এখান থেকে আমরা কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ের খুব সুন্দর ভিউ পেয়েছি।

অবশেষে আমরা একটু হলেও কাঞ্চনজঙ্ঘা এর দেখা পেয়েছি। ঐযে দূরে মেঘের উপরে আয়নার মত বরফ চিক চিক করছে, ওটাই কাঞ্চনজঙ্ঘা। দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবার মত দৃশ্য।
অবশেষে আমরা একটু হলেও কাঞ্চনজঙ্ঘা এর দেখা পেয়েছি। ঐযে দূরে মেঘের উপরে আয়নার মত বরফ চিক চিক করছে, ওটাই কাঞ্চনজঙ্ঘা। দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবার মত দৃশ্য।

কাঞ্চনজঙ্ঘা সম্পর্কে উইকিপিডিয়া ঘেঁটে যা পেয়েছি, তা আপনাদের সুবিধার্থে এখানে দিলাম।

কাঞ্চনজঙ্ঘা (নেপালি: कञ्चनजङ्घा /কংচন্‌জঙ্ঘা) হিমালয় পর্বতমালার পর্বতশৃঙ্গ। মাউন্ট এভারেস্ট ও কে২ এর পরে এটি পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার (২৮,১৬৯ ফুট)। এটি ভারতের সিকিম রাজ্যের সঙ্গে নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে অবস্থিত। হিমালয় পৰ্বতের এই অংশটিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমল বলা হয়। এর পশ্চিমে তামূর নদী, উত্তরে লহনাক চু নদী এবং জংসং লা শৃঙ্গ, এবং পূর্বদিকে তিস্তা নদী অবস্থিত।
কাঞ্চনজঙ্ঘা মাউন্ট এভারেস্টের ১২৫ কিঃমিঃ পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। এটা হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ। এর পাঁচটি মূল শৃঙ্গের মধ্যে তিনটা – মুখ্য, কেন্দ্ৰীয় এবং দক্ষিণ – ভারতের উত্তর সিক্কিম জেলায়, এবং নেপাল সীমান্তে অবস্থিত। বাকী দুটি শৃঙ্গ নেপালের তাপ্লেজুং জেলায় অবস্থিত।

কাঞ্চনজঙ্ঘা-মুখ্য ভারতের সৰ্বোচ্চ শৃঙ্গ, এবং একদম পূর্বদিকের পর্বতের মধ্যে ৮,০০০ মিটার (২৬,০০০ ফুট) এর অধিক উচ্চ। পাঁচটি পর্বতচূড়ার কারণে একে “তুষারের পাঁচটি ঐশ্বৰ্য” বলা হয় এবং সিক্কিম এবং দার্জিলিংয়ের স্থানীয় লোকেরা একে পবিত্র মনে করে পূজা করে।
১৮৫২ সালের আগে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে পৃথিবীর সৰ্বোচ্চ শৃঙ্গ বলে ধারণা করা হত।কিন্তু ১৮৪৯ সালে ভারতের বৃহৎ ত্রিকোণমিত্রিক জরীপে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গেল যে পিক XV বলে পরিচিত মাউন্ট এভারেস্টই হচ্ছে পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ। আরো কিছু পুনঃনিরীক্ষণ করার পর ১৮৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় যে কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ।

১৯৫৫ সালের ২৫ মে মাসে ব্রিটিশ পৰ্বতারোহী দলের সদস্য জোয়ে ব্ৰাউন এবং জৰ্জ ব্যান্ড কাঞ্চনজঙ্ঘা আরোহণ করেন। তাদেরকে সিক্কিমের চজ্ঞাল বা ধৰ্মগুরুর বিশেষ অনুমতি নিতে হয়েছিল এবং এর কোনো মর্যাদাহানি করবে না চুক্তিবদ্ধ করে পৰ্বতারোহণ করেছিল। এই দলের অন্যান্য সদস্য হল- জন এঞ্জেলো জেকসন এবং টম মেকিনন। ১৯৮৬ সালের ১১ জানুয়ারি, জেৰ্জি কুকুচজকা এবং ক্ৰিজটোভ উয়িলিকি কাঞ্চনজঙ্ঘা প্ৰথম শীতকালীন আরোহণ করে।

সূত্রঃ উইকিপিডিয়া।

কেউ কি কখনো পাহাড়ি স্ট্রবেরি খেয়েছেন? আমরা খেয়েছি। অবাক হচ্ছেন? আমাদের ড্রাইভার ভাই, উনি নিজে আমাদের ছোটো ছোটো এই ফল গুলো তুলে দিয়েছেন। এক কথায় অসাধারণ টেস্ট। উনি আরো বলেন, ছোটোবেলায় তিনি স্কুল ফাকি দিয়ে জঙ্গলে আসতেন এই ফল খেতে। তবে অনেকেই বলেছেন এইটার আসল নাম রেসবেরি, আর এখানকার মানুষ বলে এটা পাহাড়ি স্ট্রবেরি।

পাহাড়িরা এটাকে, পাহাড়ি স্ট্রবেরি। অনেকেই আবার এটাকে রেসবেরি বলে।
পাহাড়িরা এটাকে, পাহাড়ি স্ট্রবেরি। অনেকেই আবার এটাকে রেসবেরি বলে।

মাহবুব ভাই এর মাথায় ভুত চেপেছে। তিনি গুগলে ম্যাপে আরেকটি যায়গার সন্ধান পেয়েছেন। নাম ভ্যালী অফ ফ্লাওয়ার। যেটা নাকি রিসপেই অবস্থিত। আমরা ম্যাপ অনুসরণ করে আগাতে লাগলাম। কিন্তু কিছু পেলাম না। অতঃপর, আমাদের ড্রাইভার ভাই বলেন, আমাদের আর সামনে জাওয়া ঠিক হবে না। সামনে আমার সমস্যা হতে পারে।

আমরা হিল ট্র্যাকিং এর জন্য প্রস্তুত।
আমরা হিল ট্র্যাকিং এর জন্য প্রস্তুত।

আমরা এখন কালিম্পং ফিরছি। ফেরার পথে, সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা হিল ট্র্যাকিং করবো। জেই কথা সেই কাজ। নেমে পরলাম। তবে সুমন ভাই আর সাখাওয়াত ভাই নামলেন না। তারা গাড়িতে নিচে, লাভা আর রিসপের মাঝে একটা তিন রাস্তার মোড় রয়েছে, সেখানে অপেক্ষা করবেন।

ড্রাইভার ভাই আমাদের সতর্ক করে দিলেন, যে পাহাড়ি রাস্তা, বৃষ্টি হয়েছে। অনেক জোঁক আছে। তাই সাবধান। আর সব সময় সতর্ক থাকবেন। পাহাড়ি অনেক প্রানি আছে, এক সাথে হাঁটবেন আপনারা। আর কোনো সমস্যা হলে, সাথে সাথে কল করবেন।

পাহারি রাস্তার মাঝ দিয়ে চলেছি।
পাহারি রাস্তার মাঝ দিয়ে চলেছি।
পাহারি রাস্তার মাঝ দিয়ে চলেছি।
পাহারি রাস্তার মাঝ দিয়ে চলেছি।

আমরা হাঁটছি। পাহাড়ি রাস্তা, আমরা যে শুধু পাকা রাস্তা দিয়ে ট্র্যাকিং করেছি, তা কিন্তু না। আমরা পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে এসেছি। এই অনুভূতিটাও অসাধারণ। বড় বড় গাছের মাঝ খান দিয়ে, আলো আধারি পথে আমরা এগিয়ে চলেছি।

নিচে নেমে হালকা নাস্তা, পাহাড়ি পুরি, কফি। চলছি আবার। কালিম্পং এর উদ্দেশ্যে।
গতকাল কিন্তু আমরা একটা জিনিস মিস করে গিয়েছিলাম। মনে আছে? আমরা ক্যাকটাস এর বাগান দেখতে পারি নি। ঘড়িতে মাত্র ২ টা বাজে। এখন আগে সেখানে যাবো।

ক্যাকটাস বাগানে যেতে হলে, কালিম্পং চৌরাস্তা মোড় ঘুরে, তার পর যেতে হয়। ড্রাইভার ভাই আমাদের নিয়ে গেলেন। গাছ গুলো খুবি সুন্দর। যাদের ক্যাকটাস এর প্রতি একটা আগ্রহ আছে, তারা এটার সৌন্দর্য বুঝতে পারবে। মজার বিষয় কি জানেন? এই গ্রীন হাইজের ভিতরে, প্রচুর গরম। এই ঠাণ্ডার পাহাড়ে, এত গরম উৎপন্ন হয়, ভাবা যায় না।

ক্যাকটাস নিয়ে আর কি বলবো? গরমে আমারি অবস্থা খারাপ।
ক্যাকটাস নিয়ে আর কি বলবো? গরমে আমারি অবস্থা খারাপ।

অবশেষে কালিম্পং সাইটসিন শেষ। ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে আমরা নেমে গেছি। ড্রাইভার ভাই আসলেই এত ভালো ছিল, যে আমরা ছবি না তুলে থাকতে পারলাম না। উনার সাথে একটা ছবি তুলে আমরা চলেছি আবারো মাসীমার হোটেলে। দুপুরের খাবার খেতে। মেনু তেমন স্পেশাল কিছু না। সাদা ভাত। মুরগীর তরকারী আর সাথে কম্পলসারি 😛

স্পেশাল খাবার হবে রাতে। আমরা মাসীমার হোটেলে আমাদের জন্য রাতের খাবারের স্পেশাল অর্ডার দিয়ে যাই। ২ টা মাটন বিরিয়ানি, আর ৪ টা চিকেন বিরিয়ানি। আহা, সেই মজা হবে। সাথে কোক তো থাকছেই। 🙂

আমরা হোটেলে ফিরে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। শুধু আমি না, আমরা সবাই ঘুমিয়েছি। ক্লান্ত ছিলাম খুব। ঘুম থেকে উঠে প্লান করতে হবে মিরিক যাবার। আগামিকাল আমরা মিরিক যাবো।

কালিম্পং চৌরাস্তায় বসে আমরা গল্প করছি।
কালিম্পং চৌরাস্তায় বসে আমরা গল্প করছি।

সন্ধ্যা ৭টা বাজে। খাবারের টাইম, রাত ৮.৩০ পিএম। আমি সাব্বির, সুমন ভাই আর মাহবুব ভাই বেড়িয়ে পরলাম। কালিম্পংএ ঘুরাঘুরি করে, তারপরে খেতে যাবো।

এই সময় কেউ কেউ কিছু কেনাকাটা করলো। আমি ২টা মুভ কিনলাম। কাজে দেয় অনেক। কোথাও ব্যাথা লাগ্লে। পরে আমরা কালিম্পং চৌরাস্তার এখানে বসে আছি। আড্ডা দিচ্ছি। নানাবিধ প্লান করছি। হাসি ঠাট্টা গল্প করছি। কখন যে সময় পেরিয়ে গেছি, কারোই খেল ছিল না।

আমরা মাসীমার হোটেলে বসে আছি। বিরিয়ানি আসছে। আমরা বিরিয়ানি খাবো। ইয়াপ্পি। প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট খুদার পেটে বসে থাকার পরে বিরিয়ানি আসছে আমাদের দিকে।
সত্যি বলতে আমরা কেউই আসলে এই মুহুর্তটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমাদের কাছে মনে হচ্ছিল, মাসীমা ভুলেই গিয়েছিলেন, আমরা বিরিয়ানির প্রী-অর্ডার দিয়েছিলাম। আমাদের দেখে, তারাহুরা করে বিরিয়ানি রান্না করেছেন।

মাসীমার হোটেলের বিরিয়ানি।
মাসীমার হোটেলের বিরিয়ানি।

ছুপছুপা তেল, আর গন্ধহীন বাসমতীরাইস। এটা নাকি বিরিয়ানি। আমার খুব ইচ্ছে করছিল, মাসীমাকে নিয়ে আসি আমাদের পুরাণ-ঢাকাতে। উনাকে বলতাম, আপনি এখানকার বিরিয়ানি মুখে দিয়ে দেখেন। তাহলেই বুঝবেন, বিরিয়ানি কি জিনিস।
ছোখ বন্ধ করে, সবাই চুপ চাপ খেলাম। শুধু মাত্র কোক থাকার কারনে, খেতে পেরেছিলাম।
বের হয়ে আমরা সবাই একটা করে গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে নেই। কারণটা আমি আসলে এইভাবে বলতে চাচ্ছি না। টাও খুব খারাপ লাগছিল, এটাও নাকি বিরিয়ানি। তাহলে আমরা পুরাণ-ঢাকাতে কি খাই?

হোটেলে শুয়ে আছি। আগামিকাল মিরিক যাবো। খুবি বাজে একটা পরিস্থিতির সম্মুখিন থেকে নিজেদের রিকোভারি হবার চেষ্টা করছি আমরা সবাই। মানে বিরিয়ানি আরকি 😛

শুভ রাত্রি কালিম্পং।

বরাবরের মত কমেন্ট বক্স খোলা আছেই। লিখতে পারেন আপনার মনের মাধুরি মিসিয়ে মন্তব্য। পরবর্তি পরবো আসছে। অপেক্ষা করুণ। আমরা মিরিক ঘুরবো। আপনারাও ঘুবেন 🙂

 

পরবর্তি পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুণ।

mm
রিতম শাঁখারী

বয়সে তেমন একটা বড় নয়। ছোট খাটো একজন মানুষ বলতে পারেন। নিজের সম্পর্কে বড়াই করে বলার মত কিছু এখনো অর্জন করতে পারিনি। ব্যাক্তিগত কিছু বলতে চাইলে, বলতে হবে এখনো বিয়েসাধি করি নাই, তাই প্রেমিকার কথা জানতে চাইয়া লজ্জা দিবেন না। বাঙালী ঘরের একজন ছোটখাটো গরীব মানুষ, তাই বাংলার খাবারটাই বেশি পছন্দ করি। আর সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমি পুরোটাই ভিন্য। সমাজের মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন আমি কম্পিউটার শাটডাউন করে ঘুমাতে যাই। রাতকে ভালোবাসি, সেকারণে রাতের সৌন্দর্যকে উপভোগ করার চেষ্টা করি।