| by ritom | No comments

দার্জিলিং ভ্রমণ – পর্ব ০৮ (শিলিগুড়ির ওলিগলি)

সকাল সকাল নাস্তা করে, ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে। শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে। ১০ সিটের টাটা সুমো নিয়ে নিলাম। এই ফাকে আপনারা যারা এখনো আমার ০৭ নং পর্বটি পড়েননি, সেটি এখানে ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন

এবারের ড্রাইভার পরেছে শিলিগুড়ির স্থানীয়। তার কাছে ৫ মিনিটের চা ব্রেক চাইলেও, সেটা সে দেয় নি, তার ভাষ্যমতে তার শিলিগুড়ি থেকে ট্রিপ আছে, দেরি হয়ে যাবে। পুরো ২ ঘন্টার ট্রিপে, একটিও কথা বলেনি, গান বাজায় নি, আর গাড়ির একটু ওভার স্পীড তো ছিলই। যাই হোক, আমরা আমাদের মত করে মজা করছি।

এই ব্রিজটি তৈরি হয়েছে তিস্তা নদীর উপর। আমরা বিভিন্ন ক্যালেন্ডারে বা ওয়ালপেপারে এই ব্রিজটা খুব সুন্দর ভাবে দেখি। এটাই সেটা।
এই ব্রিজটি তৈরি হয়েছে তিস্তা নদীর উপর। আমরা বিভিন্ন ক্যালেন্ডারে বা ওয়ালপেপারে এই ব্রিজটা খুব সুন্দর ভাবে দেখি। এটাই সেটা।

যেহেতু এবার খুবি নিচে নামছি, তাই কান বেথা হউয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আমার স্বাভাবিক হতে বেশি বেগ পেতে হয় নি। কারণ, আমার খুব ঘুম ঘুম পাচ্ছিল। তাই বেস কয়েকবার হাই আসে। আর এই হাই তোলার ফলেই, আমার কানের ভিতরের বাতাসের প্রেশার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এক কথায় আমরা প্রায় সবাই খুব ক্লান্ত। শিলিগুড়ি এসে নামলাম। আমি আর শোভন ভাই ব্যাগ পাহারা দিচ্ছি। সাব্বির আর মাহবুব ভাই গিয়েছে হোটেল খুজতে। সুমন ভাই আর সাখাওয়াত ভাই গিয়েছে মানি এক্সচেঞ্জ খুজতে।

হোটেলে রেস্ট করছি। খুবি সুন্দর আর পরিপাটি হোটেল। ডাবল বেড। দুই রুম আমরা ২৫০০ রুপি দিয়ে নেই। ১ দিনের জন্য। হোটেলে ঢুকে আমরা প্রায় ঘুম ঘুম। গোসল করে নিলাম। তারপর আমরা বের হয়েছি দুপুরের লাঞ্চ করতে। আবারো একই প্রকার কম্পলসারি খাবারের সাথে আমি ঠিক কি খেয়েছিলাম, মাছ নাকি মুরগি, মনে নেই। তবে খাবারটা মজা ছিল।

এর পর আমরা গেলাম বিধান মার্কেট। শপিং করছে সুমন ভাই আর মাহবুব ভাই। আমি আর সাব্বির ঘুরছি আরকি।

বিদেশের মাটিতে আমাদের বাংলাদেশের পতাকা। কি সুন্দর লাগছে। দেখলেই প্রান জুড়িয়ে যায়। বিগ বাজারের মধ্যে।
বিদেশের মাটিতে আমাদের বাংলাদেশের পতাকা। কি সুন্দর লাগছে। দেখলেই প্রান জুড়িয়ে যায়। বিগ বাজারের মধ্যে।

আমার একটা শখ যেগেছে। সেটা হচ্ছে, সবাইকে দেখি ইন্ডিয়াতে এসে তারা মুভি দেখে। আমিও মুভি দেখবো। একটু আজব শোনায়, তবে এটাই আমার শখ বা সবার কাছে আমার আবদার।
তাই আমি মোবাইলে সব সময় আসে পাসের সিনেপ্লেক্স খুজছিলাম। 😀

আমরা এখন কোথায়? শিলিগুড়ি বিগ বাজার শপিং মলে। সবাই শপিং করে। আমি সাব্বির আর শোভন ভাই ঘুরে বেরাচ্ছি, মলের এক পাশ থেকে আরেক পাশে।

এই ছবিটা আসলে কোনো অর্থ নেই। বিগ বাজারে ঘোরাঘুরির সময়, টিশার্ট দেখছিলাম তখন। সাইজের কম্বিনেশনটা দেখে ভালো লাগে। তাই একটা ছবি নিয়ে নিলাম।
এই ছবিটা আসলে কোনো অর্থ নেই। বিগ বাজারে ঘোরাঘুরির সময়, টিশার্ট দেখছিলাম তখন। সাইজের কম্বিনেশনটা দেখে ভালো লাগে। তাই একটা ছবি নিয়ে নিলাম।

আমি একটা ট্রাভেল ব্যাগ খুজছি। পুরো বিগ বাজার ও সেই শপিং মল ঘেটেও, মনের মত পেলাম নাহ। আরেকটা জিনিস খেয়াল করলাম, এখানে কম দামি কি আছে?
সবাই বলে ইন্ডিয়াতে নাকি দাম কম। কিন্তু কই? কমের মধ্যে শুধু মাত্র বাইকের দাম কম পেয়েছি 😛
ছোট একটি উদাহরণ দেই। আমি একটা ক্যামেরা কিনতে চাচ্ছিলাম। বাংলাদেশে দাম ৩৮০০০ টাকা। আর ইন্ডিয়াতে ৩০০০০ টাকা। একটু লোভ লাগছে তাই না? থামেন থামেন। এত লোভ লেগে লাভ নেই। ইন্ডিয়াতে ৩০০০০ টাকা মানে ৩০০০০ ইন্ডিয়ান রুপি। অর্থাৎ বাংলাদেশে এটার টাকার মান এসে দাড়ায় ৩৫০০০-৩৬০০০ টাকা। এখন চিন্তা করেন, কত কম? মাত্র ২০০০ টাকা? আর গাড়ি ভাড়া, ট্যাক্স, এগুলা কই যাবে?
আন্তর্জাতিক বাজার হিসাব করলে, আন্তর্জাতিক কারেন্সিতে চেঞ্জ করলে যেই লাউ, সেই কদু।

প্রায় সন্ধ্যা… সবাই শপিং করছে। সাখাওয়াত ভাই আবার আলাদা হয়ে গিয়েছে। কই গেছে জানি না। ফোন ধরছে না। তাই আমরা উনাকে রেখেই আবারো বিধান মার্কেটের উদ্দেশে যাচ্ছি। শোভন ভাই হোটেলে চলে গেছে।
বিধান মার্কেটে আমি আর সাব্বির ঘুরা ঘুরি করে, হোটেলে ফেরত আসি।
মূল কথা হচ্ছে, শরীরটা কেমন জানি লাগছিল। এতদিন থান্ডার মাঝে থেকে, এখানে এত গরম।।

হোটেলে ফিরে, আবারো ফ্রেশ হয়ে, একটু ঘুম… বেশিক্ষণ নয়, ঘণ্টাখানিক।। এরি মাঝে আমি এখনো সিনেপ্লেক্স খুজে চলেছি…

এই পর্বে এই পর্যন্তই। আবার ফিরছি পরের পর্বে। কথা হবে সেখানে।

 

পরবর্তি পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুণ।

mm
ritom

Please enter the biographical info from the user profile screen.