| by ritom | No comments

দার্জিলিং ভ্রমণ – পর্ব ০৯ (ইচ্ছে পূরণ)

শুভ সন্ধ্যা শিলিগুড়ি। আমি আর সাব্বির রুমে, বাকিরা বাইরে। আমি একটা সিনেপ্লেক্সের খোজ পেয়েছিল নাম সিনেমা কার্নিভাল। বাকি খোজ আসতে ধিরে নেয়া যাবে। আপনারা চাইলে ততক্ষনে আমার ০৮ নং পর্বটা পড়ে আসতে পারেন

ছোট একটা মজা করলাম, সাব্বির মাহবুব ভাইকে কল দিয়ে বলে আমরা ৬টা মুভি টিকিট বুক করে ফেলেছি। ১০ টায় মুভি। তারাতারি আসতে হবে।
ঝটপট সবার চলে এলো। আমরা প্রায় পোনে নয়টার দিকে হোটেল থেকে বের হই। সিনেমা কার্নিভালের খোজে। কিন্তু আমরা এটা জানতাম না, এটা অনেক দূরে।

রাস্তায় এক দাদাকে পাই, তাকে সিনেমা কার্নিভাল এর লোকেশন জিজ্ঞেস করলে, তিনি আমাদের বলেন, আপনারা আইনক্সে জান। এটা পাশেই আছে। ৫ মিনিটের রাস্তা। সিনেমা কার্নিভাল আরো ৩০-৩৫ কিলো দূরে।

অটোতে চড়ে বসলাম। কে কেমন ভাবছে জানি না। আমার খুব খুশি লাগছিল। তবে এখন এটা প্রকাশ করা যাবে না। পরে দেখা যাবে সবাই মজা করছে আমাকে নিয়ে। আপনারাও ভুলে জান। 😛
আইনক্সে এসে টিকিট কাটলাম। এখানে বেধেছে আরেক সমস্যা। সাখাওয়াত ভাই মুভি দেখবে না। কেনো? তার ইচ্ছে করছে না। মূল কথা হচ্ছে, তার কাছে টাকা নেই। তিনি চাচ্ছেন না, আর কারো কাছে থেকে ধার নিয়ে মুভি দেখতে। এক প্রোকার মুখ কালো করেই চলে আসেন তিনি। বিষয়টা খারাপ লাগে। তবে কি আর করা বলেন? মানুষের ভিতরটা কেউ কখনো ভালো কথা বলে পরিবর্তন করতে পারে না।

হাতে সময় আছে মাত্র ৩০ মিনিট। এর মধ্যে রাতের খাবার খেতে হবে। সব হোটেল বন্ধ হউয়া শুরু হয়েছে। আর শো শেষ করে কিছুই পাওয়া যাবে না। তাই পাশেই একটা ছোট হোটেলে খেয়ে নিলাম।
ইন্ডিয়ার কম্পলসারি খাবারের বর্ননা আর দিতে চাচ্ছি না। বুঝে নেন।

সালমান খানের সাথে আমি।
সালমান খানের সাথে আমি।

আমরা পাঁচজন বসে আছি। শুরু হয়েছে ভারত (BHARAT)। সালমান খানের নতুন মুভি। আমি আমার পাশে সাব্বির, তার পাসে মাহবুব ভাই, সুমন ভাই আর শোভন ভাই।
আমি হিন্দি ভালোই বুঝি। কিন্তু বলতে পারি না। বলতে গেলেই ইংরেজি বের হয়ে যায়।
আবার মাহবুব ভাই হিন্দি বুঝে না। বলতে পারাতো অনেক দূরের।
তাই সাব্বির দায়িত্ব নিয়েছে, মাহবুব ভাই কে সম্পুর্ন মুভি বাংলায় ট্রান্সলেট করবে। কারণ, আমাদের ৬ জনের মধ্যে, একমাত্র সাব্বির খুব কম সময়ের মাঝে হিন্দি আয়ত্ত করে নিয়েছে। সে অনর্গল হিন্দি বলতে পারে। মূলত আমাদের ট্যুরের যেসব যাগায় হিন্দিতে কথা বলা দরকার ছিল, সেখানে সাব্বির এসে কথা বলেছে।

সালমান খানের সাথে সাব্বিরো ছবি তুলেছে।
সালমান খানের সাথে সাব্বিরো ছবি তুলেছে।

যাইহোক, সাব্বির অনুবাদ শুরুতো করেছে, কিন্তু মাহবুব ভাই থামিয়ে দিয়েছে। তার মতে, এটা ট্রান্সলেট করলে, মুভির আসল মজা পাওয়া যায় না। আর মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে।

আমরা দেখছি। ইন্টারভালে বের হই, পপকর্ন আর ড্রিংক কিনতে। ইচ্ছা ছিল, খরচ আমি দিবো। ওমা, সবচেয়ে ছোট পপকর্ন এর দাম ১৫০ রুপি। আর বাকি কিছুর দাম নাইবা বলি। এত টাকা দিয়ে পোসানো যাবে না। তাই মুভিতে মনোযোগ দেই। মানুষ তেমন নেই। আমার উপরে। ২-৩ সারি মানুষ আছে। আর আমার সামনে সব ফাকা । 😀

পায়ের উপর পা তুলে বসে আছি। ফিলটাই অন্যরকম। যদিও সালমান খান আমার সব থেকে প্রিয় হিরো না। তাও পছন্দের তালিকায় আছে। মুভির কাহিনি বলছি না। পারলে আপনারা হলে গিয়ে দেখে আসবেন। এক কথায় অসাধারণ একটি মুভি। কেননা, আমরা মাত্র মুভি দেখে বের হয়েছি। তখনি মাহবুব ভাই বলেছে, তার ভালো লেগেছে। মানে তার হৃদয় ছুয়ে গেছে।
আর বাকি দুই জন? সুমন ভাই আর শোভন ভাই এর কথা জিজ্ঞেস করছেন? তার পুরো সিনেমাই ঘুমিয়ে কাটিয়েছে। 😛

হোটেলে ফেরার সময়, অটোতে বসে বসে মনে মনে খুব আনন্দিত হচ্ছিলাম। কেনোনা, আমার ইচ্ছেগুলো খুব একটা বড় কিছু হয় না। খুব ছোট ছোট। তবে সেটা খুব কম প্রকাশ পায়। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, সবাইকে দেখেছি, ইন্ডিয়া এসে সিনেপ্লেক্সে মাল্টিপ্লেক্সে মুভি দেখে। ইমন ভাই কে দেখেছি, আজিম ভাই কে দেখেছি। লাবনিকে দেখেছি। আরো অনেককে। আজ আমিও দেখলাম। কি মজা তাই না? আমিও বলতে পারবো, ইন্ডিয়া গিয়ে সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখেছি।

হোটেল রুমে ফিরে ঘুম… ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। তবে যাওয়ার আগে কিছু কথা না বলে যাওয়া ঠিক হবে না।

অন্যরা কিভাবে বিষয়গুলো দেখেছে, জানি না। আমি যা দেখেছি, বা আমার কাছে যা মনে হয়েছে, সেটাই বলছি।

    • খুব কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয় যায়। মানে হল, আমার কাছে সুন্দর দেখা বা আমার ভালো লেগেছে এমন মেয়ে সবাইকে দেখেছি বিয়ে হয়ে গিয়েছে।
    • আপনি সমতল থেকে যত উপরর দিকে অর্থাৎ পাহাড়ের দিকে যাবেন, দেখবেন পানির গ্লাসের সাইজ ছোট হচ্ছে।
    • খাবার দাবারের বেলায়, প্রচুর মেতি ব্যাবহার করে। যেটা অবশ্য আমরা খেয়ে অভ্যস্ত না। তবে আমি মানিয়ে নিয়েছিলাম। আরো বড় বিষয় হচ্ছে, আমার খাবারে যেটা প্রয়োজন নেই, সেটাও থাকে। যেমন কম্পলসারি সবজি তরকারী। আমি যদি মুরগি বা মাছ খাওয়ার জন্য অর্ডার দেই, তাহলে সবজি তরকারী খাবো কোন দুঃখে?
      কিন্তু একটা জিনিস খুব ভালো লেগেছে, সেটা হচ্ছে খাওয়ার সময় চিপস দেয়ার বেপারটা। এটা যদি আমাদের দেশেও চালু হত!
    • ভালো শৌচাগারের অভাব। এটা নিয়ে আর কিছু নাই বা বলি।
    • বাইক নিয়ে বলবো? এটাতো আমাকে পাগল করে দিয়েছে। ইন্ডিয়াতে এত পরিমাণে বাইক দেখেছি, যে আমি এখন বাইকের প্রেমে পরে গেছি। বাইক একটা না কিনা পর্যন্ত আমার শান্তিতে ঘুম হচ্ছে না।
    • যদি ইন্টারনেটের বিষয় বলি, তাহলে ইন্টারনেট খুবি এগিয়ে গেছে। এক কথায় ঝাক্কাস।
    • যাতায়াত ব্যাবস্থায় ট্রেনে যতটুক এগিয়েছে, বাস কিন্তু সেই ভাবে আগায় নি। ভালো মানের বাস খুব কম দেখেছি।
    • আন্তরিকতার দিক দিয়ে, পাহাড়ের মানুষ দের কথা অতুলনীয়। তারা অতিথি অর্থাৎ আমাদের মত টুরিস্টদের খুব ভালো আপ্যায়ন করেছে। তবে সমতলের কথা সঠিক বা স্পষ্ট ভাবে বলতে পারছি না। কারণ এখানে বেশি সময় ছিলাম না।
    • জিনিস পত্রের দাম নিয়ে কথা বললে, শুধু বাইক ছাড়া আর কিছুতে তেমন কম মনে হয় নি।
বিধান মার্কেটে আমরা ৬ জন। যদিও এই ছবিটা এই পর্বের লেখার সাথে কোনো ভাবেই যায় না। তাও দিলাম। খুজে পাচ্ছিলাম না। একটু আগেই পেয়েছি।
বিধান মার্কেটে আমরা ৬ জন। যদিও এই ছবিটা এই পর্বের লেখার সাথে কোনো ভাবেই যায় না। তাও দিলাম। খুজে পাচ্ছিলাম না। একটু আগেই পেয়েছি।

আরো কিছু বলতে হবে? থাক। আর নাহ। দেশের জন্য মন কাঁদছে। পরের পর্বে দেশে ফিরছি। দেশে ফিরে বাকি কথা হবে। ইন্ডিয়া নিয়ে অনেক কথা হল। উপরের কোনো কথায় যদি কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। খমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি শুধু আমার ভিতরের কথা বলার জন্য লিখি। আর কিছু না। মন্তব্য করতে পারেন। আপনার মনের কথা আমি শুনবো। 🙂

শুভ রাত্রি।

পরবর্তি পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুণ।

mm
ritom

Please enter the biographical info from the user profile screen.