| by ritom | No comments

দার্জিলিং ভ্রমণ – পর্ব ১০ (দেশে ফিরছি)

দেশে ফিরছি! অনুভূতিটাই অন্য রকম। যে নিজের দেশে ফিরবো এখন। সকাল সকাল নাস্তা করতে চললাম। লুচি পরটা সবজি। আপনারাও চাইলে এরি মধ্যে এখানে ক্লিক করে আমার আগের পর্বটা পড়ে আসতে পারেন।

নাস্তা সেরে আরেকবারের মত বিধান মার্কেটে গেলাম। মাহবুব ভাই আর সুমন ভাই এর কেনাকাটা এখনো বাকি। বেশ কয়েকটা ব্যাগ হয়েছে।

দেখেছেন কত গুলো ব্যাগ? এখানে সব গুলো আমাদের। আরো আছে, আমাদের পাশে। আমরা হোটেলের লবিতে বসে আছি। চেকাউট পর্ব চলছে আর দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষা।
দেখেছেন কত গুলো ব্যাগ? এখানে সব গুলো আমাদের। আরো আছে, আমাদের পাশে। আমরা হোটেলের লবিতে বসে আছি। চেকাউট পর্ব চলছে আর দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষা।

ঝটপট গুছিয়ে রেডি হয়ে বসে আছি। ১২টার কাছা কাছি। হোটেলের লবিতে বসে আছি। চেকাউট এর কাজ চলছে। শিলিগুড়ি থেকে সব কাজ শেষ করে, ১টার কাছা কাছি। সোজা বর্ডার। দুপুরের খাবারের কথা ভুলিনি। তবে ইন্ডিয়াতে আর কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।

ইন্ডিয়ার ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস শেষ করে, ডিপার্চার সিল নিয়ে আমরা চললাম, বাংলাদেশের দিকে। আহ… সামনেই আমার দেশ।

দেখেছেন আমরা কত্ত খুশি? কারণ আমরা এখন দেশের মাটিতে। ঐযে পিছনে দাগ দেখছেন, অইটা ইন্ডিয়া বাংলাদেশের সিমানা।
দেখেছেন আমরা কত্ত খুশি? কারণ আমরা এখন দেশের মাটিতে। ঐযে পিছনে দাগ দেখছেন, অইটা ইন্ডিয়া বাংলাদেশের সিমানা।

আমরা এখন বাংলাদেশে! মাত্র জিরো পয়েন্ট পার হয়ে, বিজিবি এর খাতায় এন্ট্রি করেছি। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে সবাই দাঁড়ায় আছি। সবাই এক সাথে ভিতরে ঢুকবো। ইমিগ্রেশন থেকে সব ফর্মালিটিস শেষ করে, এরাইভাল সিল নিয়ে বের হয়েছি।। বিকাল ৩-৪ টা বাজে। আমাদের বাস সন্ধ্যা ৭ টায়।

বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্ট।
বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্ট।

খুব শান্তি লাগছে। খুদাও লেগেছে প্রচুর।। ইমিগ্রেশন অফিসের উল্টো পাশেই খাবারের হোটেল। খাবারের মান যেমনি হোক, কি যে স্বাদ লেগেছে বলার বাহিরে। মুরগি দিয়ে প্রায় তিন প্লেট এক্সট্রা ভাত নিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, গত সাতদিন পর আমি খাওয়া দাওয়া করছি। এর মাঝে কিছু খাই নাই। খাওয়া দাওয়া শেষ।

হোটেলের এক পাশে খোলা মাঠ। হালকা হালকা বাতাস বইছে। বসে আছি সবাই। বাস ছাড়তে আরো সময় বাকি আছে। আসে পাসেও একটু হাটা চলা ছবিতোলা ইত্যাদি চলছেই।
মনের মধ্যে প্রশ্ন আসতেই পারে, এত ব্যাগ নিয়ে আমি ঘুরছি কিভাবে?
আমি আগেই বলেছিলাম আমাদের রিটার্ন টিকিট কাটা। তাই বাস কাউন্টারে সব ব্যাগ লক করা আছে।

বাস ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছি, আর বাসের সাথে সেলফি তুলবো না, সেটা কি হয় কখনো?
বাস ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছি, আর বাসের সাথে সেলফি তুলবো না, সেটা কি হয় কখনো?

অবশেষে বাস এসেছে। সন্ধ্যা ৭টার বাস। ছাড়তে ছাড়তে বেজেছে রাত ৯ টা।
বিকেলে এত পরিমাণে খেয়েছিলাম যে রাতে আর কিছু খাইনি।
এসি বাস হউয়াতে জার্নিটা বেশ আরামের ছিল। তবুও খুব ক্লান্ত। কাল সকালে আবার অফিসে যেতে হবে। ঘুমানোর সময় নেই। তাই বাসেই যত পারা যায়, ঘুমিয়ে নিতে হবে।

সিরাজগঞ্জের জ্যাম এর কথা মাথায় আছে কারো? সকাল ৭-৮ টার দিকে আমরা সিরাজগণের জ্যামে বসে আছি। বাসায় কখন পৌছাই, তার কিন্তু ঠিক নেই। তারউপর অফিসতো আছেই।

ঢাকায় মাজাররোড নেমেছি দুপুর ২ টায়।। 🙁 কিসের নাস্তা, কিসের লাঞ্চ। সিএনজি নিয়ে সাব্বিরের বাসায় সব ব্যাগ রেখে, এই অবস্থাতেই অফিসে দৌড়…

টানা ৩০ ঘন্টা জার্নি করে, ঢাকায় ধুকেই অফিসে চলে এসেছি কামলা খাটতে।
টানা ৩০ ঘন্টা জার্নি করে, ঢাকায় ধুকেই অফিসে চলে এসেছি কামলা খাটতে।

তা কেমন লাগলো আমাদের সাথে ঘুরতে? মন্তব্য ঘরে লিখে ফেলতে পারেন। মাঝে হয়ত অনেক লেখা আপনাদের অনেকেরি পছন্দ নাও হতে পারে। সেটা না দেখার ভান করে থাকবেন 😛 কারণ, আমি আগেও বলেছি, আবারো বলছি। আমি এখানে আমার যেটা আমার দৃষ্টিতে দেখি, সেটাই লিখি। আপনার দৃষ্টিতে সেটা পছন্দ নাও হতে পারে। তবে তাই বলে কি মন খারাপ করে বসে থাকলে চলবে? আবারো ঘুরতে যেতে হবে। অন্য কোথাও।

আজকের মত টাটা। সুম্পুর্ন ১০টি পর্ব লিখেছি। আগের গুলো না পড়লে, পড়ে আসার অনুরোধ রইলো। 🙂

পরবর্তি পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুণ।

mm
ritom

Please enter the biographical info from the user profile screen.