| by রিতম শাঁখারী | No comments

ব্লগে লেখা কি খুব সহজ?

আচ্ছা ব্লগ লেখা কত্ত সহজ মনে হয় আপনাদের কাছে? মনে হতেই পারে। কিন্তু অতটা সহজ নয়।
এর জন্য প্রথমেই দরকার হয়, অনেক অনেক আজাইরা সময়। যেসময়, হাজারটা আজগুবি কথা, মিলিয়ে মিশিয়ে আপনাদের পড়ার জন্য দেয়া হয়। এইসব বেরকরতেও ত সময় লাগে।

এইযে ধরেন, এখন লিখছি, আর আপনারা পড়ছেন। তারমানে বুঝে নেন, এইটা লিখতেও আমার কি পরিমাণ আজাইরা সময় বের করতে হয়েছে?
তো, এইটা ভাবা কোনো ভাবেই ঠিক নয়, কে ব্লগ লেখা সহজ। 😀 😀

আমি এখন একটা গল্প বলবো আপনাদের। আমি আরেক জন এর কাছ থেকে শুনেছিলাম। আগে গল্পটা পড়েন, তারপরে বাকি কথা হবে।

জীবন বদলে দেয়া একটি গল্পটি 🙂

১ টা রাজা তার সৈন্যদের সঙ্গে একটি নদীতে যায় স্নান করতে। কিন্তু ওখানে কিছু মেয়ে আগে থেকেই স্নান করছিল। রাজাকে আসতে দেখে তারা সবাই নদী থেকে উঠে চলে যেতে লাগে। ওদের মধ্যে একটি মেয়েকে রাজার খুব পছন্দ হয়…..!!

রাজা তার প্রাসাদে ফিরে গেল, কিন্তু রাজার চোখের সামনে বার বার সেই মেয়েটির মুখ ভেসে উঠছিল।

তার মন কোনো কাজে বসছিল না, রাত হল……. সারারাত রাজা সেই মেয়েটির কথা চিন্তা করল।

সকালে তিনি তার সৈন্যদের আদেশ দিলেন, “যাও খোঁজ নাও ওই মেয়েটি কোথায় থাকে”।
সৈন্যরা তার খোঁজ পেল। সেই মেয়েটির বাবা ছিল একজন কামার।
রাজা কামারকে প্রাসাদে ডেকে পাঠালেন। ৪ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও কামার রাজার প্রাসাদে এলো না।
রাজা দ্বিতীয় বার ডেকে পাঠালেন। এবার ৮ দিন পার হয়ে গেল কিন্তু সে এলো না। রাজা রেগে গেলেন আর তিনি কামারকে গ্রেফতার করার জন্য সৈন্য পাঠালেন।
যখন তারা কামারের বাড়িতে পৌছালো তখন দেখল বাড়িতে তালা লাগানো। রাজা সৈন্যদের হুকুম দিলেন কামারকে খোঁজার জন্য। সৈন্যরা কামারকে সব জায়গা খুঁজলো কিন্তু তার খোঁজ মিলল না।

তারপর তিনি একটি উপায় বের করলেন। তিনি ঘোসনা করলেন, “যে কামারকে খুঁজতে সাহায্য করবে তাকে ১ কিলো স্বর্ণ মুদ্রা দেওয়া হবে।”
এক সপ্তাহ পার হয়ে গেল, তবুও কামারের খোঁজ মিলল না।
আবার ঘোসনা করলেন, “যে কামারকে লোকাতে সাহায্য করবে তাকে সুলিতে চাপানো হবে।”
আরও এক সপ্তাহ পার হয়ে গেল। তবুও কামারের খোঁজ মিলল না। এই করে ১ মাস পার হয়ে গেল টবুও কামারের খোঁজ মিলল না।
তারপর রাজা ঘোসনা করলেন, “কামার যদি না পাওয়া যায় তাহলে তিনি গোটা রাজ্যকে সাস্তি দেবেন”। তবুও কামারের খোঁজ মিলল না। অবশেষে তিনি প্রতিবেশী রাজ্যের রাজাদের কাছে সাহায্য চাইলেন। তারাও তাদের রাজ্যে কামার কে খুজলেন। তবুও কামারের খোঁজ মিলল না।

রাজা উদাস হয়ে গেলেন। একদিন রাজা একটি স্বপ্ন দেখলেন। স্বপ্নে সেই নদীটি দেখলেন আর স্বপ্নেই ছুটে গেলেন সেই নদীটির কাছে। কিন্তু ওখানেও কেউ ছিল না। উদাস হয়ে যখন পিছনে ঘুরলেন, তখন একটি সাধু বাবাকে দেখতে পেলেন। তিনি নদীর পাসে একটি ছোট্ট কুঠিরের দিকে ইসারা করলেন এবং বললেন…..

“তুমি যাকে খোঁজ করছো সে ওখানেই আছে”। সেই মুহুর্তে রাজার ঘুম ভেঁঙে যায় এবং তার সৈন্যদের নিয়ে সেই নদীর কাছে গেলেন। সেখানে স্বপ্নের সেই কুঠিরটি দেখতে পেল। রাজা বড় খুসি হলেন এবং যখন কুঠিরে প্রবেশ করলেন। তিনি একটি মেয়ে আর একজন বৃদ্ধ লোককে দেখতে পেলেন। কিন্তু সেই মেয়েটি দেখতে খারাপ ছিল। আর ওর বাবা ছিল ভিখারি।

এখনও কামারের খোঁজ মিলল না। সবশেষে রাজা রেগে গিয়ে তার সৈন্যদের বাদ দিয়ে দিলেন। অতঃপর…  কেসটা CID- এর হাতে দিলেন। তবুও কামারের খোঁজ মিলল না। অবশেষে রাজার, তার সৈন্যদের, প্রতিবেশী রাজ্যের, আর CID- এর কামারকে খোঁজা ব্যর্থ হয়।

এবং তাদের সময় নষ্ট হল, যেমন এই গল্পটি পড়াতে আপনার সময় নষ্ট হয়েছে..
আমার সাথেও এমনটি হয়ে ছিল…..!!!!!
(সমাপ্ত)

 

এখন বলেন, কেমন লাগলো?

mm
রিতম শাঁখারী

বয়সে তেমন একটা বড় নয়। ছোট খাটো একজন মানুষ বলতে পারেন। নিজের সম্পর্কে বড়াই করে বলার মত কিছু এখনো অর্জন করতে পারিনি। ব্যাক্তিগত কিছু বলতে চাইলে, বলতে হবে এখনো বিয়েসাধি করি নাই, তাই প্রেমিকার কথা জানতে চাইয়া লজ্জা দিবেন না। বাঙালী ঘরের একজন ছোটখাটো গরীব মানুষ, তাই বাংলার খাবারটাই বেশি পছন্দ করি। আর সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমি পুরোটাই ভিন্য। সমাজের মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন আমি কম্পিউটার শাটডাউন করে ঘুমাতে যাই। রাতকে ভালোবাসি, সেকারণে রাতের সৌন্দর্যকে উপভোগ করার চেষ্টা করি।