| by রিতম শাঁখারী | No comments

গৃহবন্দী অবস্থায় আজ ১৫ তম দিন – অনেক কিছুই পরিবর্তিত

গৃহবন্দী অবস্থায় আছি আজ ১৫ তম দিন। গত ১৭ মার্চ সকাল ৭ টায় আমি বাসায় ঢুকি। আজ ১লা এপ্রিল সকাল ৮ টা। এর মধ্যে কিছু বিশেষ প্রয়োজনে বের হয়েছিলাম, তাও ২ দিন মিলিয়ে ৩০ মিনিটের মত হবে। বলা যায় আমার ১৪ দিনের একটা ফুল কোর্স শেষ।
 
এই কয়দিনে অনেকের মাঝে অনেক ধরণের পরিবর্তন আসে। ভালো পরিবর্তন, খারাপ পরিবর্তন, ইত্যাদি। আমার মধ্যেও এমন অনেক কিছুই ঘটেছে।
 
যে পরিবর্তন গুলো আমার জন্য কাম্য ছিল না, সেগুল আগে বলি।
 
০১/ আমার এখন কেনো জানি না, কারো সাথে কথা বলতে খুব লজ্জা লাগে। মানে ধরেন, সামাজিক দূরত্ব বজিয়ে রেখেই কথা বললাম, মুখে মাস্ক এবং মাঝে দূরত্ব ০৩ ফুটের বেশি থাকলেও আমার মাথায় চিন্তা ঘুরতে থাকে, অপর পাশের মানুষটা আমাকে নিয়ে মনেহয় খুব খারাপ কিছু ভাবছে। সে হয়ত ভাবছে, রিতম এর সাথে কেনো কথা বলছি, ওর শরীরে ভাইরাস থাকলে, আমি তো মারা যাবো। বিশ্বাস করেন, আমি কারো মৃত্যুর কারণ হতে চাই না। তাই অনলাইন বলেন আর অফলাইন বলেন, কোনো মাধ্যমেই তেমন কথা হয় না। আর সরাসরিত হয়ই না।
 
০২/ রাতকে আর রাত মনে হয় না। কয়েকদিন আগেও রাত ১০-১১ টা বাজলেই মনের মধ্যে অনুভূতি আসতো, রাত হয়েছে। আর এখন নির্দিধায় ভোর ৪-৫টা বেজেযায়। এর পরে আমার খেয়াল হয়, এতক্ষন রাত ছিল।
 
০৩/ ঘুমের পরিবর্তন। যেহেতু রাতকে ভুলে গেছি, তাই ঘুমের পরিবর্তনতো আসবেই। ঘুমাতে যাচ্ছি ভোর ৫ টার পরে আর উঠছি দুপুর ২-৩ টায়। তাহলে বোঝেন কি ঘুমটাই না দেই।
 
০৪/ খাদ্যাভ্যাসে এসে আরো বিপর্জয়। সকালে নাস্তা খেতে হয়, সেটা খাওয়া হয় না। একবারে বিকালে ৪-৫ টার দিকে খাই দুপুরের খাবার, আর রাতের খাবার খাওয়া হয় ১২ টার পরে।
 
০৫/ টং দোকানের চায়ের স্বাদ কেমন হয়? এটাও মনে নেই।
 
আরো অনেক ছোট ছোট কিছু বিষয় আছে। যেগুলো না বলাটাই ভাও।
 
ভালো দিক কি কি জানেন? নিজের বিভিন্ন স্কিলস গুলো মনের মত করে সাজাচ্ছি। এখন অবশ্যই জিজ্ঞেস করবেন না, সেগুলো কি কি? বলবো না। ফেসবুকে একটা এ্যালবাম করেছিলাম। এই কয়দিনে যাযা পেয়েছি, সব কিছুর। সেটি এখন প্রাইভেট করা। কেনো জানেন, আমরা বাঙালীরা কখনো কারো ভালো কিছু দুই চোখে দেখতে পারি না। নানান মানুষ নানান কিছু বলা শুরু। আমিও মানুষ। ভালো লাগা মন্দ লাগা আমারো আছে। আমি আস্তে আস্তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিলাম, তাই প্রাইভেট করে নিজের মত করেই চলছি।
 
এইত, এখন ডেব ডেব করে তাকিয়ে আছি। সারারাতে একফোটাও ঘুমাইনি। এখনো ঘুমাতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু আপনারা সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই বজায় রাখবেন।
mm
রিতম শাঁখারী

বয়সে তেমন একটা বড় নয়। ছোট খাটো একজন মানুষ বলতে পারেন। নিজের সম্পর্কে বড়াই করে বলার মত কিছু এখনো অর্জন করতে পারিনি। ব্যাক্তিগত কিছু বলতে চাইলে, বলতে হবে এখনো বিয়েসাধি করি নাই, তাই প্রেমিকার কথা জানতে চাইয়া লজ্জা দিবেন না। বাঙালী ঘরের একজন ছোটখাটো গরীব মানুষ, তাই বাংলার খাবারটাই বেশি পছন্দ করি। আর সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমি পুরোটাই ভিন্য। সমাজের মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন আমি কম্পিউটার শাটডাউন করে ঘুমাতে যাই। রাতকে ভালোবাসি, সেকারণে রাতের সৌন্দর্যকে উপভোগ করার চেষ্টা করি।